ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য-বিষয়ক সম্পাদক আহসানুল ঢাকার সাবেক সাংসদ হাজি মকবুল হোসেনের ছেলে। আহসানুলের নানার বাড়ি নাগরপুর উপজেলার গয়হাটায়। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খন্দকার আবদুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আহসানুল স্ত্রীসহ একটি হেলিকপ্টারযোগে নাগরপুর উপজেলা সদর থেকে গয়হাটা ঈদগাহ মাঠে অবতরণ করেন। এ সময় ২৩ মার্চ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে গয়হাটা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ সামছুল হকসহ দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা ব্যানার নিয়ে তাঁদের স্বাগত জানান।
হেলিকপ্টার থেকে নেমে আহসানুল গয়হাটা বাজার ও আশপাশের এলাকায় দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে গণসংযোগ করেন। পরে বাজারে আয়োজিত সভামঞ্চে বক্তব্য দেন। সমাবেশে কেন্দ্রীয় আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হামিদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র সাহা, দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক সিবলী সাদিক, প্রার্থী শেখ সামছুল হক প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে তিনি বিকেলে হেলিকপ্টারযোগে চলে যান।
এলাকার বেশ কয়েকজন জানান, হেলিকপ্টার নিয়ে আহসানুলের নির্বাচনী প্রচারণায় আসার বিষয়টি কয়েক দিন ধরে এলাকায় প্রচার করা হয়। তাই সকাল থেকেই উৎসুক লোকজনের ভিড় জমে গয়হাটা বাজার ও ঈদগাহ মাঠ এলাকায়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ২০১৬-এর ১৩ ধারার উপধারা খ অনুযায়ী নির্বাচনী কাজে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আশকর আলী বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে হেলিকপ্টার নিয়ে এসে প্রচারণা চালিয়েছেন। কোথাও অভিযোগ দিলে ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। তাই তিনি কোনো অভিযোগ করেননি।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে আহসানুল ইসলামের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
0 comments:
Post a Comment