পয়লা বৈশাখে মুখোশ পরা ও ভুভুজেলা নিষিদ্ধ

দেশে প্রকাশ্য স্থানে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান বিকেল পাঁচটার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুভুজেলা নামে পরিচিত উচ্চ শব্দের বাঁশি বাজানো নিষিদ্ধ এবং মুখোশ দিয়ে মুখ ঢাকা নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
সাধারণত পয়লা বৈশাখ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রায় অনেকে রংবেরঙের মুখোশ পরে বা মুখোশ হাতে নিয়ে অংশ নেন।
১৪ এপ্রিল বঙ্গাব্দ ১৪২৩ বরণের উৎসব সুষ্ঠুভাবে উদ্যাপনে সচিবালয়ে গতকাল রোববার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব নির্দেশনার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে চারুকলা অনুষদ। অনুষদের ডিন নিসার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘চারুকলায় আমরা মুখোশ বানাই মুখ ঢাকার জন্য নয়, সেটা আমরা হাতে নিই, প্রদর্শন করি এবং মাথায় দিই।’ তিনি বলেন, ‘আপনি নিরাপত্তাও চাইবেন, আবার মুখও ঢেকে রাখবেন, তা তো হবে না। এ ছাড়া ভুভুজেলা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।’
তবে সরকারের এ উদ্যোগের সমালোচনা করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার প্রথম আলোকে বলেন, সরকার নিরাপত্তা দিতে পারছে না, অন্যদিকে সন্ত্রাসীদের জন্য ছাড় দিচ্ছে। মুখোশ দিয়ে মুখ ঢাকা নিয়ন্ত্রণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভুভুজেলা বন্ধ করা ঠিক আছে, কিন্তু ঐতিহ্যবাহী মুখোশ বন্ধ হোক, তা আমরা মেনে নেব না। আমরা এর বিরোধিতা করি।’
বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবাই যাতে নির্বিঘ্নে বৈশাখী উৎসব করতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য যা যা করার সবই করা হবে। মানুষের এই উৎসাহ-উদ্দীপনায় আমরা বাধা দিতে পারি না। কিন্তু আমরা অনুরোধ করছি, বিকেল পাঁচটার মধ্যে সব শেষ করতে হবে। ছয়টার মধ্যে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই সমস্ত “পাবলিক প্লেস ক্লিয়ার” করার জন্য সচেষ্ট থাকবে এবং করার ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি বলেন, ভুভুজেলা বিকট আওয়াজ করে। এই বিকট আওয়াজের বাঁশি নিষিদ্ধ থাকবে। এ ছাড়া মঙ্গল শোভাযাত্রায় ছোট ছোট মুখোশ দিয়ে মুখ ঢাকার বিষয়টি এবার নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
সারা দেশে বর্ষবরণের উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জেলা প্রশাসকদের সব ধরনের সহযোগিতা দেবেন বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।
আসাদুজ্জামান খান গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের এসব বিধিনিষেধ মানতে গণমাধ্যম যেন জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে। নববর্ষে নিরাপত্তার দায়িত্বে সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। গত বছর বর্ষবরণের উৎসবে নারী লাঞ্ছনার ঘটনার উল্লেখ করে তিনি এই সতর্কতার কথা জানান।
রাজধানীতে বর্ষবরণের মূল আয়োজন হয়ে উঠেছে রমনা বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতি অনুষ্ঠান। আর চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা এই উৎসবের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। পয়লা বৈশাখের মূল আনুষ্ঠানিকতা দিনের প্রথম ভাগে হয় বলে বাঙালির বর্ষবরণ উৎসবে আগে সন্ধ্যার কড়াকড়ি ছিল না।
তবে বিএনপি-জামায়াত জোটের টানা অবরোধ-হরতালে ব্যাপক নাশকতার পর গত বছর উন্মুক্ত স্থানে বর্ষবরণের সব অনুষ্ঠান বিকেল পাঁচটার মধ্যে শেষ করতে বলে পুলিশ। গত বছর নিরাপত্তার মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে ভিড়ের মধ্যে একদল যুবক নারীদের লাঞ্ছনা করে। ওই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিভিন্ন সংগঠন। পরে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও থেকে পুলিশ আটজনের ছবি প্রকাশ করে। ওই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের কথা বলেছে পুলিশ। সর্বশেষ গত মার্চে পুলিশের তদন্ত ব্যুরোকে এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত।
Share on Google Plus

0 comments:

Post a Comment