তিন দিনের লালন স্মরণ উৎসবের আজ শেষ দিন। কুষ্টিয়ার ছেঁউরিয়ায়, লালন আখড়া বাড়ি ছেড়ে গেছেন অনেক সাধক বাউল। সাধনার আর কোনো আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও, রাতে লালনমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে লালনের গান।
দুরারোজ্ঞ ব্যাধি নিয়ে কুষ্টিয়ার এই কালিগঙ্গা নদী দিয়েই ভেসে এসেছিলেন লালন সাই। (মাজারের জিভির ফুটেজ দিতে পারেন)সুস্থ্য হয়ে এই অঞ্চল থেকেই তিনি প্রচার শুরু করেন মানব ধর্মের বাণী। যে স্থানে বসে লালন তার শিষ্যদের আধ্যাত্ববাদ শেখাতেন, মৃত্যুর পর সেই স্থানটি হয়েছে লালনের মাজার, ভক্তরা যাকে বলে ‘হক’-এর ঘর। লালন অনুসারীদের প্রধান তীর্থ স্থান।
লালন তার জীবদ্দশায় দোলপূর্ণিমায় সাধুসঙ্গ করতেন। সেই গুরু শিষ্য পরম্বরা আজও বিদ্যমান। শত বছরের পুরনো এই প্রথা সম্পন্ন হয় রাখাল সেবা, বাল্য সেবা, অধিবাসন ও পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে। দোল পূর্ণিমার দিন থেকে তার পর দিন দুপুর পর্যন্ত এই সাধনার সময়। স্বাধীনতা দিবসের জন্য লালন একাডেমী এবার পাঁচ দিনের লালন স্মরণ উৎসব কমিয়ে এনেছে তিন দিনে। লালন স্মরণ উৎসব উপলক্ষে দর্শণার্থী আর সাধকদের গানে মূখর থাকে গোটা আখড়া বাড়ি।
তিন দিনব্যাপী আয়োজনের আজ শেষ দিন। লালন মঞ্চে গান পরিবেশন ছাড়া নেই আর কোনো আনুষ্ঠানিকতা। বাউল সাধকেরা বেদনার্ত মন নিয়ে ফিরে গেছেন নিজ আশ্রয়ে। জানিয়ে গেছেন, বার বার আসতে চান সাঁইজির কাছে।

0 comments:
Post a Comment