চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী পাচ্ছে না আ.লীগ!

রাঙামাটির ১০ উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৯টিতেই চেয়ারম্যান পদে দলের কেউ প্রার্থী হতে রাজি হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের হুমকির কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নেতারা। গতকাল রোববার দুপুরে রাঙামাটি শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।

তবে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি আওয়ামী লীগের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে আগামী ২৩ এপ্রিল রাঙামাটি জেলার সব কটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কর্মীদের হুমকিতে ভীত হয়ে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে দলের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। দলের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানরা পর্যন্ত ভয়ে নির্বচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রাঙামাটিতে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। নির্বাচনের সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো তৎপর হয়ে ওঠে। জাতীয় ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তাদের (স্থানীয় রাজনৈতিক দল) দুঃসাহস ও আত্মবিশ্বাস বেড়েছে যে অস্ত্রের জোরে জয়লাভ করা যায়।
রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান পরিচালনার দাবি জানান। এ ছাড়া নির্বাচনের সময় ভোটারদের সঙ্গে আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) রাখা বাধ্যতামূলক করা, ভোটকেন্দ্রে মুঠোফোন নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ করাসহ বিভিন্ন দাবি জানান। এসব দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার ‘রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সচেতন নাগরিক সমাজের’ ব্যানারে সমাবেশ করা হবে বলে জানানো হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগের বিষয়ে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমার নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির সহকারী তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের এ ধরনের অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতব্বর কোন উপজেলায় কতটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিতে পারছে না, তার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাঙামাটি সদর উপজেলার ছয়টি ও জুরাছড়ি উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদে দলের কোনো প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি হননি। এ ছাড়া নানিয়ারচর উপজেলার চারটির ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে তিনটিতে, বাঘাইছড়ি উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে পাঁচটিতে এবং বরকল উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে একটিতে দলের কোনো প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না।
Share on Google Plus

0 comments:

Post a Comment